মোশাররফ-মওদুদ আউট গয়েশ্বর-মঈন ইন

93

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েন এখন দৃশ্যমান। সেই টানাপোড়েন পরিণতি হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্টিয়ারিং কমিটিতে আসছে রদবদল। আগের কমিটির দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কমিটিতে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের স্থলে নেয়া হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর দুই সদস্যকে।জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দূরত্ব নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনা চলছে। বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে একসঙ্গে পথচলা মেনে নিতে পারছেন না। এমনকি তারা বিএনপির হাইকমান্ডকে বিষয়টি ভেবে দেখার কথা বলে রেখেছেন।বিএনপির হাইকমান্ড ঐক্যফ্রন্টকে ছাড় দেয়ার নীতিতে অনঢ় থাকায় ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটিতে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ দুই নেতা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটিতে থাকতে চাচ্ছেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে তাদের নাম।

সূত্র জানায়, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকার বিষয়ে নিজেদের অনীহার কথা দলের হাইকমান্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন। হাইকমান্ডও সব কিছু বিবেচনায় এতে সায় দিয়েছে। তাদের স্থলে নতুন দুজনকে স্টিয়ারিং কমিটিতে যুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে হাইকমান্ড। তারা হলেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান।
সূত্র জানায়, নীতিনির্ধারণে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের কর্তৃত্ব ভালো চোখে দেখছেন না বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা মনে করছেন- ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির মত খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। অনেক সময় ফ্রন্ট নেতাদের ছাড় দিতে গিয়ে বিএনপিকে মাসুল গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের পেটে ঢুকে পড়বে বিএনপি। এসব বিবেচনায় দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে।এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হচ্ছে স্টিয়ারিং কমিটি। এ কমিটির সদস্যরা আলোচনা করেই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেন। এতে বিএনপিসহ শরিক সব দলের তিনজন করে প্রতিনিধি আছেন।

বিএনপি থেকে স্টিয়ারিং কমিটিতে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র), স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে এ কমিটির সদস্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং টানাপোড়েনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটিতে থাকা নিয়ে নিজেদের অনীহা প্রকাশ করেন। এ কারণে তারা নির্বাচনপরবর্তী ঐক্যফ্রন্টের কোনো বৈঠকে উপস্থিত হননি।তাদের এমন মনোভাব লন্ডনে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানানো হলে দলের পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খানকে স্টিয়ারিং কমিটির দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের আগামী বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ যুগান্তরকে বলেন, ‘নো কমেন্টস’। এ ছাড়া আরও তিনজন স্থায়ী কমিটির সদস্যকে ফোন দেয়া হলে এ নিয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

বিএনপির রাজনীতিতে খন্দকার মোশাররফ ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গাঁটছড়া পুরনো। ‘ম’ অদ্যাক্ষরের এ দুই নেতা প্রায়ই দলীয় নানা ইস্যুতে একই মত দিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে মতের অমিল খুব একটা পাওয়া যায় না।অতিসম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে দলের কাউন্সিল নিয়ে একই সুরে কথা বলেন এ দুই নেতা। নতুনভাবে বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন তারা।গত শুক্রবার বিকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপিকে এখন ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। ২০০৮ সালে এমনিভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাজিত হয়েছিলাম। তার পর পরই কিন্তু আমরা দলের কাউন্সিল করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা সাহসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি, তাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে। তরুণদের জায়গা করে দিতে হবে।’

একই সুরে কথা বলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও। তার ভাষ্য- ‘যারা এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যারা দলের জন্য কাজ করেছেন; তাদের সামনের দিকে এনে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা যারা আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আমরা সরে যাব, তারপরও এ দলটিকে তো রাখতে হবে। এ কাজ আমাদের কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তা হলেই আমরা আবার মোড় ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’ উৎসঃ jugantor
শেয়ার করুন-

Loading...