‘দুর্নীতি প্রশ্রয় পেয়ে এমন জায়গায় পৌঁচেছে এর হাত আইনের থেকেও লম্বা হয়ে গেছে’

37

স্টাফ রিপোর্টার:
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, যে কোনো দেশের জনগণই হচ্ছে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বাংলাদেশের মানুষ ক্রমশ সে বোধটা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আমি যে রাষ্ট্রের একটা অঙ্গ সে বোধটা নেই। শুক্রবার এটিএন নিউজের ‘পলিটিশন’ টকশোতে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সুবিধার জন্য, তারাই সব সুবিধা ভোগ করবে এবং তারাই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রতিটা ক্ষেত্রে এ ধরণের অনাচার দেখতে পাচ্ছি। এর ফলে সাধারণ জনগণ আনেক কিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে। সুলতানা কামাল বলেন, রাজধানীতে প্রতিনিয়ত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আর মানুষ দাঁড়িয়ে সেটার ছবি তুলছে, নিজের প্রচারকার্য এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। মানুষের এতো নৈতিকহীনতার কারণ সামগ্রিকভাবে সুশাসনের অভাব

সুশাসন থাকলে মানুষ দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে নিজকার্য সম্পাদনের চেষ্টা করতো। তিনি বলেন, জনশক্তিকে সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহার করতে পারি নাই। রাজনীতিতে পরস্পরের প্রতি দোষারোপ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেশে ভীষণভাবে গেড়ে বসেছে। দুর্নীতি প্রশ্রয় পেয়ে এমন জায়গায় পৌঁচেছে এর হাত আইনের থেকেও লম্বা হয়ে গেছে। সূত্র- আমাদের সময়
আরও পড়ুন – ঋণ নিয়ে দোকান করে নি:স্ব তারা!
মেহেরান এন্টারপ্রাইজের মালিক এরশাদ চৌধুরী ও তার মামা সাহাবুদ্দিন। ৮ বছর ধরে মামা-ভাগ্নিনা গুলশান ১ ডিএনসিসি কাঁচা ও সুপার মার্কেটের বিদেশি চকলেট ও বিস্কুটের ব্যবসা করেন। শনিবারের আগুনে তাদের ২০ লাখ টাকার মালামাল পুড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে একই মার্কেটে আগুন লেগেছিল। সেই আগুনে তাদের সবকিছু পুড়ে গিয়েছিল। তারপর ব্রাক ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করেছিল।

এরশাদ চৌধুরী বলেন, ৩ ভাই, মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রামপুরা এলাকায় ভাড়া থাকেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জকারী তিনি। দোকানে থাকা ২ লাখ টাকাও পুড়েছে। ঋণ ও পরিবার নিয়ে কি করে চলবে সেই সঙ্কা। পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। মা এন্টারপ্রাইজের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ২৫ বছর ধরে কসমেটিকসের ব্যবসা করেন।
২০১৭ সালের আগুনে তার এক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছিল। তারপর আত্মীয় জনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে আবারও ব্যবসা শুরু করেন। ফের আগুনে তার ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে এখন নি:স্ব তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে আশকোনা এলাকায় থাকেন। আরআর এন্টারপ্রাইজের মালিক রেজাউল করিম বলেন, ২০১৭ সালের আগুনে তার ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল।

পরে ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ফের ব্যবসা শুরু করে। আগুনে তার ৪০ লাখ টাকার কসমেটিকস পুড়েছে। ঋণের টাকা পরিশোধের আগে সে নি:স্ব। এখন ভিক্ষা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের চারটি দোকান। উপার্জনের শেষ সম্বল হারিয়ে নির্বাক তিনি। আগুনে তার ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০১৭ সালের আগুনে তার এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। এখন কিভাবে ঋণে টাকা দিবো।
শেয়ার করুন-

Loading...