বাঁশের লাঠিকে রাইফেল ধরে নিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করি: সিইসি নূরুল হুদা

22

স্টাফ রিপোর্টার:প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ৭ মার্চের ভাষণে রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আমরা কেউ মশারি টানানোর লাঠি, কেউ বাঁশ এসব নিয়ে ছুটে যাই। সেখানে লাখ লাখ মানুষ ছিল, তার মধ্যে আমরাও ছিলাম। আমিও ছিলাম। কারণ, আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম।মহান স্বাধীন ও জাতীয় দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিইসি।

সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, রাতে আমার এক স্যারের সঙ্গে দেখা করে বলি-বঙ্গবন্ধু তো দিকনির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন, এখন কী করব? স্যার বলেন, ঢাকা শহর কারো জন্য নিরাপদ নয়, তুমি বরং গ্রামে চলে যাও।নূরুল হুদা আরো বলেন, আমি ফরিদপুরের এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের দিকে রওনা হই। গ্রামে পৌঁছে দেখি, সব তরুণ-যুবা, কৃষক-শ্রমিক-জনতা, সবার মধ্যেই যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি। আমরা শুধু মনোবল সঙ্গী করে বাঁশের লাঠিকে রাইফেল ধরে নিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করি।
সিইসি বলেন, আসলে তখন দেশের সবাই একজন যোদ্ধা, এ দেশের নদী-নালা, খাল-বিল, গাছপালাও ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। ওরা (পাক হানাদার বাহনী) সাঁতার জানত না। ফলে নদী পার হতে পারতে না। ওরা গাছে উঠতে পারত না। আমাদের গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা তালগাছের ওপর বসেও তাদের আক্রমণ করত। এভাবে পুরো মুক্তিযুদ্ধটা জনযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, আজকে বলব তাদের কথা, যাদের বয়স একাত্তর সালে ১৮ থেকে ২২ ছিল। তারা স্বাধীনতাকে কীভাবে দেখেছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনে কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কীভাবে তাদের মধ্যে সংগ্রামী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে, আমি আমার জীবনের কিছু কথা বলব। তার মানে এই নয়, আমি আমাকেই মহিমান্বিত করার চেষ্টায় বক্তব্য রাখছি। আসলে আমি বলতে চাচ্ছি, একাত্তরে যারা যুবক ছিল, তারা প্রত্যেকেই যার যার নিজের জায়গা থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পথে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছে।
‘৩ মার্চ একাত্তরে অধিবেশ স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ওইদিন ছিল ঢাকা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা। ইয়াহিয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। আমার ওইদিন মাস্টার্সের ব্যবহারিক পরীক্ষা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ছিল। আমরাও পরীক্ষা ফেলে পথে নেমে আসি।’ বলছিলেন সিইসি।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে স্বাধীনতা মানে একটা নির্বাচন (৭০ সালের নির্বাচন)। ৭ মার্চে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির মহাকাব্য, স্বাধীনতা যুদ্ধ আর ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ।নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, স্বাধীনতা মানে কেবল একটি পতাকা নয়। স্বাধীনতা মানে শহীদদের আত্মত্যাগ, মা-বোনদের সম্ভ্রব হারানো। আর এই হারানোর বেদনাটা আমাদের লজ্জার নয়, গর্বের।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমাদের সৌভাগ্য যে, আমাদের সিইসি একজন সম্মুখ যোদ্ধা। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল স্যার তরুণ যোদ্ধা, মাহবুব তালুকদার স্যার একজন অন্যতম সংগঠক। এ রকম একটি কমিশন আমরা পেয়েছি, এজন্য আমার গর্বিত। আমি তখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ফলে মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধকে আমিও একটি জনযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করি। এই যুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা স্বাধীন দেশের সুফল ভোগ করতে পারেননি। আমার সৌভাগ্যবান যে, আমার স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারছি। সেইজন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আমরা চির ঋণী। র্ষকাগজ
শেয়ার করুন-

Loading...