এদেশে যত অপকর্ম সব আ’লীগ করেছে: ফখরুল

65

স্টাফ রিপোর্টার:একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামল আমরা দেখেছি।

এই দলটার নেতা বড় বড় কথা বলেন। যত অপকর্ম এদেশে সব তাদের দ্বারা হয়েছে। দুর্ভিক্ষ হয়েছে, চরম দুর্নীতি হয়েছে এবং গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে। এই সংবিধানকে কেটে-ছিঁড়ে ফলেছে আওয়ামী লীগ।

আজকে ভিন্ন আঙ্গিকে ১৯৭৫ সালের মতো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের সব স্তম্ভগুলোকে ভেঙে দিয়েছে। রাষ্ট্রকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে ফেলেছে। বিচার ব্যবস্থা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, এমনকি এখন মিডিয়া যেটা গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ, তাকে তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে।

রবিবার (২ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আঁধারের সাথে দ্বন্দ্ব’ শীর্ষক স্মৃতি স্মারক ও দেয়ালিকা প্রদর্শনীর আয়োজন করে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (এনআরসি)। এই প্রদশর্নীতে জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড নিয়ে ৬০টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্পষ্ট করে দখলদার সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে এই নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায়, জনগণ তাদের যে ন্যায্য দাবি, সেই ন্যায্য দাবি তারা আদায় করে নেবে।

জিয়াউর রহমান সততার প্রতীক ছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন তার সততা নিয়েও কটাক্ষ করে। আমরা শুনি, বিদেশে স্তুপ জমা হচ্ছে পাহাড়ের মতো করে বিত্তের, অর্থের ও সম্পদের। অনেকের ৪/৫টা করে বাড়ি-ঘর হচ্ছে এই ঢাকা শহরে। দুর্নীতির পাহাড় গড়ছে,একেক জন পকেট ভারি করছে।

জিয়াউর রহমানকে ইংরেজি মিডিয়াম শিক্ষায় ভিলেন বানানো হচ্ছে বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক ছাত্র-ছাত্রী আমাকে বিষয়টি বলেছেন। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন স্থাপনা থেকে তার নাম মুছে ফেলছে। নতুন প্রজন্মকে উল্টো ইতিহাস শেক্ষাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে স্বাধীন নয়— নতজানু রাষ্ট্র বলে দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘দেশে একটা দুঃসময় ও সংকটকাল চলছে। এই সংকট হচ্ছে জাতির। জাতি তার সব অর্জনগু্লোকে হারিয়ে ফেলেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। এখন কি আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন বলতে পারি? পারি না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জিয়া্উর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশনেত্রীকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করবার জন্য আমরা শরিক হই। সেখানে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকি। সংগঠনের সভাপতি বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব প্রমুখ।

Loading...