অধ্যাপক মোজাফফরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত না করার মানে তার অবদান অস্বীকার : মেনন

63

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ ও ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফর কেবল একটি দলের প্রধান ছিলেন না; ভাষা আন্দোলন, পঞ্চাশের দশকের স্বায়ত্বশাসন আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় শ্রমিক ইউনিয়নসহ সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সমর্থন আদায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং জাতিসংঘে প্রবাসী সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

মুক্তিযুদ্ধ যখন চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছিলো এবং খুনি মোশতাক যখন মুক্তিযুদ্ধকে বিভ্রান্ত করে পাকিস্তানি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল সেই মুহূর্তে মাওলানা ভাষানী মনি সিংহসহ মোজাফফরকে নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। তার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য সংহতি প্রমাণ দিয়েছিল। তিনি ছিলেন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি। এ ধরনের একজন ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত না করে মুক্তিযুদ্ধে এ সব ব্যক্তির অবদানকে অস্বীকার করা হলো।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে দলীয় কার্যালয়ে কমিটির সভায় এসব কথা বলেন রাশেদ খান মেনন। তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্য তিনি (অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ) এ ধরনের সম্মানের জন্য কখনও লালায়িত ছিলেন না। স্বাধীনতা পদকও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সম্মানিত এবং মুক্তিযুদ্ধ গৌরবান্বিত হতো।

সাম্প্রতিকালে ইতিহাসে দলীয়করণের মধ্য দিয়ে আসলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন বিকৃতি ঘটাচ্ছে।’ মেনন আশা প্রকাশ করেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মতো ব্যক্তিদের সম্মান প্রদান এবং স্মরণ রাখার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমতার ধারাকে আরও এগিয়ে নেবে সরকার।

জেলা সভাপতি নজরুল হক নীলুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. টিপু সুলতান, শান্তি দাস, টিএম শাহজাহান, জাকির হোসেন ও ফায়জুল হক ফারহীন প্রমুখ।

Loading...