সামনের ভাঙা দাঁতই ধর্ষ’ককে শনাক্তের প্রধান ক্লু

241

স্টাফ রিপোর্টার: ধর্ষ’ক মজনুর সামনের দাঁত ভাঙা—এটিই ছিল তাকে শনাক্ত করার প্রধান ক্লু। গ্রেফতার ধর্ষ’ক মজনুকে নিয়ে বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সারোয়ার বিন কাসেম। তিনি বলেন, ‘মজনু ১২ বছর আগে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে দাঁত ভেঙে ফেলেছিল।

এটিই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।’মামলাটি ক্লুলেস ছিল উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ঘটনার বর্ণনা সূত্র ধরে কাজগুলো করেছি। ভিকটিমের মোবাইলসহ গতকাল (মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি) আমরা খায়রুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারে সক্ষম হই। জিজ্ঞাসাবাদে খায়রুল জানায়, এটি সে কিনেছে অরুণা নামে একজনের কাছ থেকে। এরপর অরুণার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, তার পরিচিত মজনু এই মোবাইল তার কাছে বিক্রি করেছে।’সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘অরুণার দেওয়া তথ্য ও ভিকটিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বুঝতে পারি উভয়েই একই ব্যক্তি।

পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, আমি নিজেও কথা বলেছি। ভিকটিম বলেছেন, পৃথিবীর সব চেহারা ভুলে যেতে পারি, এই লোককে ভুলবো না।’সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি ২০২০ রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধ’র্ষণের পর একটি অজ্ঞাতনামা মামলা হয়। ঢাকার সব ব্যাটালিয়ান একযোগে কাজ  শুরু করে, গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে বুধবার ভোর রাত ৪টা ৫০ মিনিটে শ্যাওড়া রেলক্রসিং থেকে ধর্ষ’ক মজনুকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় ভিকটিমের ব্যাগ, আসামির কাপড়, মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনু ধ’র্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ১০ বছর আগে সে ঢাকায় আসে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। মা জীবিত থাকলেও বর্তমানে দেশের বাড়ির সঙ্গে মজনুর কোনও যোগাযোগ নেই।প্রসঙ্গত, রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্টপেজে নামার পর তাকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে ফুটপাতের ঝোপে নিয়ে ধ’র্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় করে বান্ধবীর বাসায় যান। সেখান থেকে বান্ধবীসহ অন্য সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন