সুপ্রিম কোর্টে নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ করলো কেরালা

36

স্টাফ রিপোর্টার:মোদি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছে কেরালার রাজ্য সরকার। তাদের অভিযোগ এই আইনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা দেশের সংবিধান পরিপন্থী।

দেশ জুড়ে চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলনের মধ্যেই মোদির এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে এরকম আইনি লড়াইয়ের পদক্ষেপ নিলো বিজয়ন সরকার। আর ভারতে কেরালাই হচ্ছে প্রথম রাজ্য যারা এই বিতর্কিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই এই আইনটির বিরুদ্ধে ৬০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানায়, কেরালার বাম সরকার নিজেদের আবেদনে জানিয়েছে, এই আইন সাম্যের অধিকারসহ সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে তারা এই আইনকে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতির পরিপন্থী বলেও অভিযোগে এনেছে।

কেরালার রাজ্য সরকার একই সঙ্গে পাসপোর্টের সংশোধনী ২০১৫ অনুযায়ী নিয়মগু’লি এবং বৈদেশিক (সংশোধন) আদেশ ২০১৫-এর বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৪’র ডিসেম্বরের আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে যে অমুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ভারতে প্রবেশ করেছে তাদের ভারতে থাকার অনুমতি দেয়ার কথা রয়েছে।

গত মাসের গোড়ার দিকে ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাস হয় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি। এর পরপরই এটি আইনে পরিণত হয়। তবে পার্লামেন্টে বিলটি তোলার সঙ্গে সঙ্গে দেশ জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ যা এখনও চলছে। তখন পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালাসহ ছয় রাজ্য সরকার এই আইন কার্যকর না করার ঘোষণা দেয়। শুরু থেকেই এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে সরব রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই প্রথম ভারতের কোনও রাজ্য সরকার এর বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল। এ ক্ষেত্রে সত্যিই দেশের মধ্যে উদাহরণ তৈরি করলো কেরালার বিজয়ন সরকার।

ভারতীয় সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে সাম্যের অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হবে না’। আর ২৫ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘সমস্ত ব্যক্তি বিবেকের স্বাধীনতার জন্য সমানভাবে অধিকারী।এদিকে সোমবার সিএএ এবং এনপিআর সহ এনআরসিরও বিরোধিতা নিয়ে নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেছে বাম ও কংগ্রেসসহ দেশের ২০টি বিরোধী দল। ওই বৈঠকে আগত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা তাদের রাজ্যে জাতীয় নাগরিক তালিকা বা এনআরসি বাস্তবায়ন না করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এমএ/

Loading...