হীরক রাজার কাহিনীকেও হার মানিয়েছে হাসিনা: গয়েশ্বর

95

শেখ হাসিনার সরকার হীরক রাজার কাহিনীকেও হার মানায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্র, রাষ্ট্র নাই। সব ধ্বংস করে ফেলেছে এই সরকার।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এই বিএনপি নেতা। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে সম্মিলিত ছাত্র ফোরাম।

গয়েশ্বর বলেন, যে যেমন পারছে, লুটেপুটে খাচ্ছে। আমরা সবাই জানি পণ্যর সরবরাহ বাড়লে দাম কমে, কিন্তু এই সরকারের আমলে তার বিপরীত দেখতে পাচ্ছি। কৃষক ধান উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারছে না। ধান ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে, দাম পাচ্ছে না। অথচ চাল কিনতে গেলে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। সকালে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, বিকেলে লবণের দাম বাড়ছে। শেখ হাসিনার সরকার হীরক রাজার কাহিনীকেও হার মানিয়েছে।

রাষ্ট্রে গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, যে রাষ্ট্রের গণতন্ত্র থাকে না তাকে রাষ্ট্র বলা চলে না। গণতন্ত্র অর্জন করার জন্য যিনি লড়াই করেছেন, যুদ্ধ করেছেন, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রেখে এই সরকার গণতন্ত্র প্রচার করছেন এটা ঠিক না। দেশের প্রতিটি খাতে দুর্নীতি চলছে। সরকার দলীয় যে নেতাদের নাম কখনো শুনিনি, সেই নেতাদের হাড়ি থেকে বের হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তাহলে এমপি-মন্ত্রীদের পকেটে কত টাকা আছে? আমরা এই সরকারের পতন চাই।

তিনি বলেন, একজন আপসহীন নেত্রী জেলখানায় থাকবেন আর আমরা প্যারোলে মুক্তির জন্য প্যারোল আর কোর্টে দৌঁড়াবো? আমরা আন্দোলন করবো, রাজপথে সেই আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে। আন্দোলনটাই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা সবাই জানি মৃত্যু অনিবার্য। সেই মৃত্যুকে যদি রোধ করতে না পারি, তাহলে আমরা কাপুরুষের মতো রাস্তায় নামতে ভয় পাই কেন? খালেদা জিয়া জেলে গেছেন, আমাদের মধ্যে দুই-চার-পঞ্চাশ-একশটা রাস্তায় গুলি খেয়ে পড়ে যাইনি, তাহলে আমরা নেত্রীকে কোন মর্যাদায় রাখলাম?

তিনি বলেন, আমাদের নেতা হওয়ার পেছনে যার অবদান, তার জন্য কি আমাদের কিছু করার নেই? যদি থাকে তাহলে আন্দোলনের বিকল্প নেই। আমরা যারা আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না, এটা হচ্ছে অপরাধ।

সম্মিলিত ছাত্র ফোরামের আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।