পেঁয়াজ ছাড়াই ২২ পদের রান্না করতে জানেন খাদ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: খাদ্য ভবনে চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
পেঁয়াজ ছাড়া রান্নায় উৎসাহ দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, পেঁয়াজ ছাড়া ২২ পদের রান্না জানেন তিনি। রোববার খাদ্য ভবনে চালকল মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন খাদ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে চালকল মালিকরা পেঁয়াজের দাম কমানোর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ না খেলে কী হয়? মালিকরা উত্তর বলে, পেয়াজ দিলে রান্নায় খুব স্বাদ হয়। খেতেও মজা লাগে।

তখন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র বলেন, পেঁয়াজ ছাড়া ২২ পদের রান্না আমি জানি। আপনাদের খাওয়াতেও পারবো।
এসময় সভায় উপস্থিত সবাই মন্ত্রীর ২২ পদের খাবার খেতে দাওয়াত চান। মন্ত্রী হাস্যরস করে তার বাসায় আসতে বলেন।
পেঁয়াজের দামের মতো চালের দামও যেন অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে না যায়, সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন ধরে পত্র-পত্রিকায় দেখছি চালের দাম বাড়ছে।

তবে এখনও আমাদের মজুদ অনেক বেশি। পেঁয়াজের দামের মত চালের দাম নিয়েও যেন কোনো সমস্যা না হয়, সহনীয় বাজার যেন অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে না যায়। চালের দাম কম থাকলেও আমাদের গোষ্ঠী উদ্ধার করা হয়, বাড়লেও গোষ্ঠী উদ্ধার করা হয়। বাজার সহনীয় রাখতে হবে। এ ব্যাপারে আপনারা সতর্ক থাকবেন।

অপ্রাপ্ত বয়সের প্রেম, পরিবার বাধা দেয়ায় মিতুর কাণ্ড | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রতীকী
কিশোর বয়সের অবুঝ আবেগ যুক্তি মেনে চলে না। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মিতুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল একই এলাকার কিশোর সুমনের সাথে। কিন্তু মিতুর পরিবার বারংবার এতে বাধা দিয়ে যায়। পরিবারের এই বাধায় অভিমান করে শনিবার (১৬ নভেম্বর) মিতু গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্নহ’ত্যা করে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর কিশোর প্রেমিক সুমন দেখা করতে মিতুর বাড়িতে আসে। এ ঘটনা টের পেয়ে মিতুর বাবা সুমনকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ সময় সুমনের একটি মোবাইল ফোন ফেলে রেখে যায়। ফোনটি উদ্ধার করে মিতুর বাবা মজিবুর রহমান ভেঙে ফেলে মেয়েকে শাসন করেন।

এক পর্যায়ে মিতু কান্নাকাটি করে বাবার সাথে অভিমান করে বসত ঘরের একটি কক্ষে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।মিতুর চাচা বলেন, আমরা ভেবেছি মিতু হয়তো রাগ করে দরজা বন্ধ করেছে। পরে রাত ১২টার দিকে কোনো ধরনের সাড়া শব্দ না পেয়ে ওই কক্ষের ফাঁক দিয়ে উকি দিয়ে দেখি ও আত্মহ’ত্যা করেছে।ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শাওন চক্রবর্তী জানান, মৃত্যুটি রহস্যজনক হওয়ায় ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

বাড়ির ছাদে ১৫ মণ পেঁয়াজ, পুলিশের হানা

স্টাফ রিপোর্টার:পেঁয়াজ মজুদ করার অভিযোগ পেয়ে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা এলাকার সুভাসচন্দ্র নামে এক ব্যক্তির বাড়ির ছাদ থেকে ১৫ মণ পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশের কাছে দু’দিনের মধ্যে ওই পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার মুচলেকা দেন ওই ব্যবসায়ী।

বাঘার হাটের সবজি ব্যবসায়ী মানিক মিয়া জানান, যে অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বেশি হয়, সেইসব অঞ্চলে মানুষ সেই ফসলের মৌজুদ করে থাকেন। এদিক থেকে উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল বাউসা এবং আড়ানী ইউনিয়নের অনেক ব্যক্তি তাদের ঘরে অসংখ্য পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছেন।

তার মতে, প্রশাসনের লোকজন যদি ওইসব বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই মুহূর্তে বাজারে পেঁয়াজ ছাড়ার ব্যবস্থা করেন তাহলে এ অঞ্চলে পেঁয়াজের বাজার অনেকটা স্থিতিশীল হয়ে যাবে।

এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভিত্তিতে শনিবার একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ‘বাঘায় ব্যবসায়ীদের বাড়িতে পেঁয়াজের গুদাম’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হলে সেটি চোখে পড়ে চারঘাট-বাঘা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি নুরে আলমের চোখে। তিনি বাঘা থানা পুলিশকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে বলেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শফিউল্লা সুলতান বলেন, বাঘায় উৎপাদিত পেঁয়াজ স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশাপাশি দেশের অন্যত্র রপ্তানি হয়। অল্প কিছু দিনের মধ্যে আমাদের দেশে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। সেই সময় পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হবে।

কিছু পরগাছা, হাইব্রিড আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেছেন, ‘কিছু পরগাছা, হাইব্রিড আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়েছে। এরা আওয়ামী লীগের সম্পদ নয়, বন্ধু নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মীও নয়। এই রাজনীতি শেখ হাসিনা আমাদের শেখাননি। একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল করা আমাদের সবার কর্তব্য।

রবিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি নলডাঙ্গা ভুষণ হাইস্কুল মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মুখে আস্তে আস্তে হাসি ফুটছে। যে হাসির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এক যুগের বেশি ১৪ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। সেই হাসি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফুটছে।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন আরও বলেন, ‘নেত্রী কাজ ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তার দফতরে কোনও ফাইল পড়ে থাকে না। শুধু তাই নয়, তিনি তৃণমূল পর্যায়ের সব নেতাকর্মীর খবর রাখেন।

তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জনগণ এবং কর্মীদের মূল্যায়ন করতে শেখেন। সাধারণ জনগণ ও কর্মীদের অবদানের কথা যে নেতা যতো বেশি মনে রাখবেন এবং স্বীকার করবেন ততো বেশি নেতার নেতৃত্ব বিকশিত হবে, জনপ্রিয়তা বাড়বে।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা,

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল, ঝিনাইদহ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল আজম খান চঞ্চলসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

৮ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বাসা থেকে স্ত্রী ও পুত্রকে তুলে আনেন এসপি হারুন

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এসপি হারুন অর রশিদকে পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে।ঘুরেফিরে বারবার আলোচনায় আসছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে সদ্য প্রত্যাহার পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদ। গত বছর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে কয়েক মাস ধরে বারবার আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। সবশেষ আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেলের থেকে চাদা আদায়ের ইস্যুতে আবারো আলচনায় তিনি।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে গত রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরদপ্তরে পুলিশ সুপার টিআর হিসেবে বদলি করা হয়। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দাবি করা ৮ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে গভীর রাতে আম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে নারায়ণগঞ্জে তুলে আনেন এসপি হারুন। শুধু তা-ই নয়, ঢাকা ক্লাব থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি জব্দ করে মাদক ও অ’স্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজান এসপি হারুন। তবে গুলশান ও শাহবাগ থানা পুলিশ এ বিষয়ে কিছুই জানে না।

এরআগে শওকত আজিজ গণমাধ্যমকে জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এসপি হারুন তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এ কারণেই তার স্ত্রী ফারাহ রাসেল ও ছেলে আনাফ আজিজকে গুলশানের বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান। গত ৫ মে হারুনের বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন শওকত আজিজ রাসেল।

রাসেল জানান, ’গত শুক্রবার রাতে তার শুলশানের বাসভবনে গভীর রাতে এসপি হারুন হানা দেন। তার সঙ্গে ছিলেন ডিবির পোশাক পরা, সাদা পোশাকধারী ও পুলিশের পোশাক পরা ৬০ থেকে ৭০ জন সহযোগী। এ সময় তার বাসা তছনছ করা হয়।’ বাসভবনে এসপি হারুনের প্রবেশ ও তার স্ত্রী-পুত্রকে তুলে আনার ভিডিও প্রকাশ পেলে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এসপি হারুন ঐ বাসায় ঢুকে সঙ্গীদের ওপরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিন দফায় প্রায় ২০ জন সহযোগী তার বাসায় প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তার সহযোগীরা রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে বের করে নিয়ে আসেন।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শওকত আজিজ রাসেলের বাসভবনে এসপির হারুনের এই বাহিনী নিয়ে প্রবেশের কথা জানে না গুলশান থানা পুলিশ কিংবা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি। শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারাহ রাসেল প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরীর মেয়ে। ছেলে আনাফ আজিজ যুক্তরাজ্য থেকে পড়াশোনা শেষ করে সদ্য দেশে এসেছেন। অভিযোগ রয়েছে— এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হলেও রাজধানীর বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করতেন। প্রতি মাসে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ঢাকায় এসে নিয়মিত গুলশানের লেকশোর হোটেলে বসেন। সেখানে বসেই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন এবং চাঁদার টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যান। এসপি হারুন নিয়মিতই নাম্বার প্লেটহীন গাড়িতে করে ঢাকায় চলাফেরা করতেন। ১ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগ, মগবাজার ও গুলশান, বনানীতে স্থাপিত পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

অভিযোগপত্রে শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, ’এসপি হারুন আমাকে গুলশান ক্লাবের লামডা হলে ও গুলশানের কাবাব ফ্যাক্টরি রেস্তোরাঁয় ডেকে নিয়ে দুইবার চাঁদা দাবি করেন। ঐ টাকা ডলারে আমেরিকায় এসপি হারুনের নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠাতে বলেন। টাকা না দিলে আমার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিম ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমার কোম্পানির ৪৫ জন কর্মীকে গভীর রাতে গাজীপুর থানায় ধরে নিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে পাঠান এসপি হারুন।’ এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমান সে সময় বলেছিলেন, ’অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কিন্তু এসপি হারুনের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ এছাড়াও এসপি হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তিনি ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় পত্রিকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতেন।

উল্লেখ্য,শওকত আজিজ রাসেলের গাড়ি থেকে একটি প্যাকেটে থাকা ২৮ রাউন্ড গুলি, ১২শ’ ইয়াবা, ২৪ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ৪৮ ক্যান বিয়ার ও নগদ ২২ হাজার ৩শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় মাদক বহনকারী একটি সাদা রঙের জিপ (ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১৩-৮৩৭৫)। এ ঘটনায় শওকত আজিজ রাসেল ও তার গাড়িচালক সুমনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অ’স্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়েছে

ইউএনও’র গাড়ীর ধাক্কায় মৃত্যুমুখে পিইসি পরীক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার:পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ির ধাক্কায় ২ পিইসি পরীক্ষার্থী গুরুতর আ’হত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে ভান্ডারিয়া-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার দক্ষিণ ইকড়ি নামক স্থানে।

জানা গেছে, জেলার মঠবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজকে বহন করা সরকারী গাড়ীর ধাক্কায় (পিরোজপুর ঘ-১১-০০১০) দুপুরে পারভীন (১০) ও ফাতিমা (৯) নামের ভান্ডারিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর (পিইসি) দুই পরীক্ষার্থী গুরুতর আ’হত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পিইসি পরীক্ষা শেষে ওই ২ পরীক্ষার্থী অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। এসময় তারা ভান্ডারিয়া-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ ইকড়ি সংলগ্ন সড়কে পৌঁঁছলে রাস্তা পাড়া পাড়ের সময় বরিশালগামী পিরোজপুর ঘ-১১-০০১০ নম্বরের একটি জিপ গাড়ি (মঠবাড়ীয়া ইউএনও গাড়ী) তাদের ধাক্কা দিলে তারা গুরুতর আ’হত হয়। আ’হতদের প্রথমে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পড়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. বেল্লাল হোসেন জানান, আ’হতদের মধ্যে শিক্ষার্থী পারভীন এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার নাক ও মুখ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মঠবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজ জানান, ওই গাড়িতে করে তখন তিনি অফিসিয়াল কাজে বরিশাল যাচ্ছিলেন। কিন্তু এ সময় ইকড়ি নামক স্থানে বসে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা রাস্তার উপর থামিয়ে যাত্রী নামাচ্ছিলো।

এ সময় ওই অটোতে থাকা ওই ২ ছাত্রী নেমে দৌড়ে রাস্তা পাড় হচ্ছিলো। এ সময় তারা গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে আ’হত হয়। আ’হতদের উদ্ধার করে তিনি (ইউএনও) চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

বিয়ে বাড়ির খাবার খেয়ে গর্ভবতী নারীসহ হাসপাতালে ভর্তি ৪০ জন

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ছবি: প্রতীকীমুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাগেশ্বর গ্রামের এক বিয়ে বাড়িতে খাবার খেয়ে ১২ জন শিশুসহ ৪০ জন অতিথি অসুস্থ হয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গুরুতর অসুস্থ গর্ভবতী এক নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে বাগেশ্বর গ্রামের কনের পক্ষ স্থানীয় আলী কমিউনিটি সেন্টারে অতিথিদের বিয়ের খাবারের আয়োজন করে।

এতে কনের বাড়ির আত্মীয় স্বজন ছাড়াও একই উপজেলার পঞ্চসার এলাকার বরের বাড়ির লোকজন এই খাবারে অংশ নেয়। খাবার খাওয়ার পর থেকে অনেক অসুস্থ বোধ করে। পরে শনিবার অসুস্থতা বোধ বেশী করায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়।

গুরুতর অসুস্থ গর্ভবতী এক নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আকস্মিক রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় বেডে সিট না হওয়ায় রোগীদের হাসপাতালে রোগীদের মেঝেতে রাখা হয়েছে।হাসপাতালে ভর্তি বর পক্ষের তুষার মিয়া জানান, পোলাও, মুরগীর ফ্রাই, গরুর মাংস ও ডাল দিয়ে খাবার খান তিনি। এরপর থেকেই নানা রকম অস্বস্তি বোধ করছিলেন।

জ্বর, পেট ব্যাথা ও পাতলা পায়খানা হলে হাসপাতালে ভর্তি হন।তিনি জানান, হাসপাতালে ৪০/৫০ জন চিকিৎসা নিলেও খাবারে অংশ নেয়া প্রায় আড়াই শতাধিক অতিথি কমবেশি অসুস্থ হয়েছে। গরুর মাংসে কোন সমস্যা ছিল বলে তার মনে হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক জানান, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে এই অবস্থা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত ৪০ রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে এই বিয়ের বর সাইফুল ইসলাম রানা ও কনে রুপা আক্তার সুস্থ রয়েছেন।

মামলা কমাতে পুলিশ কর্মকর্তার অভিনব কৌশল

স্টাফ রিপোর্টার: বিরোধ নিষ্পত্তি নিজ কক্ষে সালিশ করেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামহবিগঞ্জে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মনযোগী হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোকে নিয়ে বসে উভয়ের কথা শুনেন।

সাক্ষীদেরও সাক্ষ্য নেন। এরপর তা মীমাংসা করে দেন।
এমনভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করেন উভয়পক্ষই তাতে সন্তুষ্ট থাকে। অনেক সালিশ করেন গল্পের ছলেও। যে কেউ দেখলে মনে করবেন, যেন কোনো গ্রাম্য মুরব্বি সালিশ করে দিচ্ছেন।

এমন অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। সালিশে তিনি উভয়পক্ষের মুরব্বিদেরও পরামর্শ নেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, মানুষের সমস্যাগুলোকে নিজের সমস্যা মনে করেই দেখি। তাদের সুখ দুঃখের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনি। মানুষ যখন তার ক্ষোভের কথা মন খুলে বলতে পারে তখন তার ক্ষোভ অনেকটাই কমে যায়।

তিনি বলেন, ছোটখাটো বিষয়ে মামলা মোকদ্দমায় মানুষ জড়িয়ে তার সহায় সম্পদ সব নষ্ট করে। এগুলো আমাকে পীড়া দেয়। আদালতে দৌড়ে মানুষ সব নষ্ট করে। এমন তাড়না থেকেই আমি সালিশে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগী হয়ে উঠি। এতে পুলিশের প্রতিও মানুষের আস্থা বাড়ে। এখন পুলিশকে ভয় নয়, আপন মনে করে মানুষ।

জানা গেছে, গত এক বছরে সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক বিরোধ সালিশে নিষ্পত্তি করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা। দিনরাত তিনি বিভিন্ন স্থানে চষে বেড়ান মানুষের বিরোধ খোঁজে। স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশ, বিট পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গ্রাম্য মুরব্বিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তাদের মাধ্যমে বিরোধীয় পক্ষগুলোকে খুঁজে বের করে সালিশের আয়োজন করা হয়।

হাটবাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় সচেতনতামূলক সভা করেন। সব শ্রেণির মানুষের কাছে নিজের মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দেন। কেউ যেন কোনো বিরোধে জড়ালেই তাকে জানানো হয়। নির্ধারিত কোনো সোর্স নিয়োগ না করে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় অপরাধ দমনে কাজ করছেন। এতে বেশ সারাও পাওয়া যাচ্ছে।

মানুষও উৎফুল্ল হয়ে তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন মানুষের কাছে। আর স্থানীয় মানুষের সহায়তা নিয়ে ইতিমধ্যে ৩০ জন ডাকাত গ্রেফতার করেছেন।

এ ছাড়াও ২ জন ডাকাত পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। ৫টি খু’নের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এগুলোর কোনো ক্লু ছিল না পুলিশের কাছে। বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক সভা করেছেন ৫০০টি।

রাবি শিক্ষার্থী সোহরাবকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

স্টাফ রিপোর্টার:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী সোহরাবকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার দুপুরে শৃঙ্খলা কমিটির এক জরুরি সভায় বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ও বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের হুমায়ন কবির নাহিদ। তারা দুজনই শহীদ শামসুজ্জোহা হল ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

এর আগে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে ‘নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’র ব্যানারে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা।

পরে দুপুর ১২টা থেকে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে আন্দোলন করছিল শিক্ষার্থীরা। সাময়িক বহিষ্কারের খবরে তারা অবস্থানস্থল ত্যাগ করেন। তবে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহরাব মিয়াকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় ছাত্রলীগের দুই কর্মী।

মারধরে তার বাম হাত ও ভেঙে গেছে। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন সোহরাব।

বাবরি মসজিদ মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড

স্টাফ রিপোর্টার: ছবি: সংগৃহীত বাবরি মসজিদ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। রায় পুনর্বিবেচনা করে দেখতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হবে জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার উত্তরপ্রদেশের নদওয়াতুল ওলামায় জরুরি বৈঠকে মিলিত হন ভারতের শীর্ষ মুসলিম নেতৃবৃন্দ।
বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পর অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের এটিই প্রথম বৈঠক। এ বৈঠক থেকে আগামী একমাসের মধ্যেই পুনর্বিবেচনার আর্জি দাখিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
গত সপ্তাহে ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা করে।

মসজিদটির জায়গায় হিন্দুদের মন্দির নির্মাণের রায়ের পাশাপাশি নতুন একটি মসজিদ নির্মাণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা জমি বরাদ্দেরও নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

শুরু থেকেই এই রায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। এদিন মুসলিম পার্সেনেল ল বোর্ডের তরফে বলা হয়, মসজিদ ছাড়া আমরা অন্য কোনও জমি গ্রহণ করতে পারব না।

বোর্ডের প্রধান মাওলানা সাইয়্যিদ রাবে হাসানী নদভীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানি, সাইয়‍্যেদ ওয়ালী রাহমানি, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের আমির মাওলানা আরশাদ মাদানী, জামাতে ইসলামী হিন্দের আমির সাইয়‍্যেদ জালালুদ্দিন উমরী, মাওলানা খালেদ রশিদ ফিরিঙ্গী মহল্লী,

অ্যাডভোকেট জাফর ওয়াব গিলানি, মুফতী আতিক আহমদ বাস্তবী, মাওলানা উমরাইন রহমানি প্রমুখ।
ভারতীয় মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে সবমতের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বোর্ডটি।