করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু, দাফনে বাঁধা চেয়ারম্যানের

74

করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ফাতেমা বেগম (৪০) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তির দেড় ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

ফাতেমা বেগমের গ্রামের বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নে। রাতে তার লাশ সেখানে নিয়ে দাফন কাজ শুরু করলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী তাতে বাঁধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মৃত ফাতেমার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর হোসেন। কর্মসূত্রে চাঁদপুর শহরে তিনি বসবাস করলেও তার বাড়ি চট্টগ্রামে। তারা চাঁদপুর শহরের মাদরাসা সড়ক এলাকায় থাকেন।

চাঁদপুরে করোনাবিষয়ক ফোকালপার্সন, জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সুজাউদৌলা রুবেল জানান, শুক্রবার রাত ৮টায় করোনার উপসর্গ সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ফাতেমা বেগম হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি করোনার কারণে মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে আজ শনিবার সেই নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

ফাতেমা বেগমের লাশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন মেনে মৃতের দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান ডা. রুবেল। কিন্তু মৃতের মরদেহ দাফনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার এলাকা হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা। ওই নারীর বাবার বাড়িতে দাফনের ব্যবস্থা করা হলে বাদ সাধেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী।

এ ছাড়া ফাতেমা বেগমের পরিবারের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান হাদী এবং স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে জানতে তাদের সঙ্গে যোগযোগ করা হলেও রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আব্দুর রশিদ জানান, মরদেহ দাফনে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।