Home | বিশেষ প্রতিবেদন | শিশু সন্তান ছাড়া কিছুই রক্ষা পায়নি অাঁখি আক্তারের

শিশু সন্তান ছাড়া কিছুই রক্ষা পায়নি অাঁখি আক্তারের

শিশু সন্তানকে ছাড়া কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি গার্মেন্টস কর্মী অাঁখি আক্তারের। ঘরের সব পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। আগুন থেকে বাঁচতে এক বছরের মেয়েকে নিয়ে নিরাপদে চলে গিয়েছিলেন। আগুন নিভে যাওয়ার পর পোড়া স্তূপের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে না পেয়ে আর্তনাদ করতে থাকেন অাঁখি আক্তার।

সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে ইলিয়াস আলী মোল্লা বস্তিতে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। ভোর ৩টায় লাগা আগুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর পুড়ে যাওয়া ঘরের মধ্যে প্রয়োজনীয় মালামাল খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। অাঁখি আক্তার জানান, রাত তিনটার দিকে আগুন আগুন করে চিৎকার শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। চারদিকে শুধু ধোঁয়া উড়ছিল। তাই কিছু না ভেবেই সন্তানকে কোলে নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। দূর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেন। কিছুই করার ছিল না তার। আগুন নিভে যাওয়ার পর নিজের ঘরের সামনে এসে দেখেন তার প্রয়োজনীয় সব কিছু পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া ঘরের কয়লার স্তূপের মধ্য থেকে ধোঁয়া উড়ছিল।

আর্তনাদ করতে করতে অাঁখি জানান, গতকাল রোববার তার স্বামী শুশুর বাড়িতে গেছেন। ঘরে তিনি ও তার এক বছরের একটি মেয়ে ছিলেন। গতকাল বেতন পেয়েছিলেন অাঁখি আক্তার। বেতনের সব টাকা ঘরের মধ্যে রাখা ছিল। এছাড়া ঘরের মধ্যে প্রায় এক লাখ টাকার আসবাপত্র ছিল। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নিভে যাওয়ার পর পোড়া স্তূপের মধ্যে কিছু খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার ভোর ৩টায় রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে ইলিয়াস আলী মোল্লাা বস্তিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ৭টা ২৪ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। ভোরে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে ১৩টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে ইউনিট সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যান স্থানীয়রাও। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী মোল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, বস্তিটিতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বাস করে। সেখানে সাত থেকে আট হাজার ঘর রয়েছে।
এমএইচএম/ওআর/জেআইএম

About admin

Check Also

‘ব্যাংক লুটের কারিগর’

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহাবুদ্দিন আলম। ভাগ্যগুণে দেশের দুই ডজন ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছেন। ব্যাংকগুলোও বাছবিচার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *