Home | রাজনীতি | ‘তুফান কাণ্ড’ আমাদের লজ্জায় ফেলেছে: বগুড়ায় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

‘তুফান কাণ্ড’ আমাদের লজ্জায় ফেলেছে: বগুড়ায় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় বগুড়ার ‘তুফান কাণ্ড’ সবাইকে লজ্জায় ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, ‘‘দেশ যখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, বিশ্ব দরবারে দেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে, ঠিক তখন বগুড়ার ‘তুফান কাণ্ড’ আমাদের লজ্জায় ফেলেছে।’’ তিনি এ ঘটনাকে সরকারের জন্য ‘বিষফোঁড়া’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে যারা আছে, তাদের বিচার করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে। বগুড়াসহ সারাদেশে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিচার এবং এমন ঘটনা বন্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে কাজ করতে হবে।’

রবিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলনেকক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বগুড়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত ও ইউএনডিপির হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের সহযোগিতায় ‘নারীর প্রতি সহিংসতা, আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী রিয়াজুল হক এসব কথা বলেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সভায় বলেন, ‘গত ৬-৭ বছরে দেশে নারী ও শিশুবান্ধব অনেক আইন হয়েছে। কিন্তু আমরা সঠিকভাবে সেসব আইন প্রয়োগ করতে পারিনি।’ দেশে নারী নির্যাতনের মামলার ৮৮ শতাংশ ও ধর্ষণ মামলার ৯৫ শতাংশ আসামি খালাস পেয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘তাহলে কি দেশে মাত্র ১২ শতাংশ নির্যাতন আর ৫ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে?’ তিনি বলেন, ‘অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থতার কারণে অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আর বিচার না পাওয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে বিচার প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’

২০১২ সালে ঘটে যাওয়া দেশজুড়ে নারী ধর্ষণ ঘটনার সঙ্গে চলতি বছরের সাত মাসের পরিসংখ্যান তুলনা করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওইবছর দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫০৮টি। আর এ বছরের প্রথম সাত মাসেই ৫২৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই সময়ে গণধর্ষণের ঘটনাই ঘটেছে ১১৯টি। বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। কারণ অনেকে আইনের আশ্রয় নেন না। পত্র-পত্রিকায় খবর আসে না।’ ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার জন্য তিনি সামাজিক অস্থিরতাকে দায়ী করেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসক নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল, সিনিয়র সহকারী জজ জেসমিন আরা জাহান, র্যা ব কমান্ডার মেজর মোরশেদ, ইউএনডিপির চিফ টেকনিক্যাল কর্মকর্তা শরমিলা রসুল, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।

Comments

comments

About senior reporter

Check Also

রাষ্ট্রপতির অধীনে সহায়ক সরকার, শেখ হাসিনা যাবেন ছুটিতে

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে শিগগিরই একটি রূপরেখা তুলে ধরার জন্য কাজ করছে বিএনপির হাইকমান্ড। …

Leave a Reply