করোনা প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না সরকার : বিএনপির অভিযোগ

144

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর এ অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় থেকে রাত ৯টা পর্য়ন্ত এই বৈঠক হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকের পর ফখরুল বলেন, করোনা ভাইরাসের অসুখটি সারা পৃথিবীতেই মানুষের শুধু ক্ষতি করছে তা নয়, এটা অর্থনীতির ওপরে প্রচণ্ড রকমের প্রভাব ফেলছে। এই কারণে বলা যেতে পারে এই বিষয়ে তাদের (সরকার) আগ্রহ কম। তারা তো ব্যস্ত মুজিববর্ষ নিয়ে। অন্য বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি সময় দিতে পারছে না তারা।

তিনি বলেন, এরকম একটা ব্যাপক বিপর্য্য় বিশ্বজুড়ে চলছে সেখানে এই বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত ছিলো সরকারের আগ্রাধিকার কাজ,  প্রথম কাজ। এটা তারা করছে না। এ ব্যাপারে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বলছি প্রত্যেকটি পোর্টে স্ক্যানার থাকা দরকার, লোকবল থাকা উচিত। করোনা ভাইরাস শনাক্ত করত যে কিট প্রয়োজন তার অপ্রতুলতা আছে। মাস্কেরও অপ্রতুলতা রয়েছে। একই সঙ্গে ইমার্জেন্সি হসপিটাল ওপেন করে দেওয়া উচিত ছিলো যেখানে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হবে।

ফখরুল বলেন, আমরা যেটা লক্ষ্য করেছি যে, করোনা ভাইরাস নিয়ে সারা পৃথিবী উদ্বিগ্ন। প্রত্যেকটা দেশের সরকার বিভিন্নরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। যাতে ভাইরাস না আসতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে একমাত্র ঢাকা এয়ারপোর্ট ছাড়া আর বোধহয় কোথাও এই স্ক্যানার নেই।সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবে বিএনপিফখরুল বলেন, আমরা আজকের সভা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, করোনা ভাইরাসের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে আমরা লিফলেট বিতরণ করবো। ড্যাবসহ অঙ্গসংগঠনগুলো এ বিষয়ে কাজ করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সরকার দাবি করছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি পাওয়া যায়নি। আজকেই আইইডিসিআর-এর পরিচালক বলেছেন যে, যেকেনও মুহুর্তেই বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।খালেদার মুক্তির দাবিতে ১১ মার্চ বিক্ষোভমির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা আবার দেখা করেছেন। তারা বেরিয়ে এসে যেটা বলেছে তা আরো উদ্বেগজনক। তাকে আমরা ফিরে পাবো কিনা-এটা নিশ্চিত নই। এটা গোটা জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

তিনি বলেন, আমরা বার বার বলেছি, চেষ্টা করছি, আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েছি কিন্তু এ ব্যাপারে এতোটুকু কর্ণপাত করছে না। আমরা আবারও বলছি যে, অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবিতে আমরা বুধবার সারা দেশে মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন