রোজা রাখলে ক্যান্সারের জীবাণু মারা যায়: নোবেল বিজয়ী জাপানি গবেষক ওশিনরি ওসুমি

364

রোজা রাখলে ধ্বংস হয় ক্যান্সারের জীবাণু। গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক তথ্য। রোজার ওপর গবেষণা করে এ ফল জানিয়েছেন জাপানি গবেষক ওশিনরি ওসুমি। এ বিষয়টি নিয়ে ওশিনরি ২০১৬ সালে ‘অটোফেজি’ নামক একটি শারীরিক প্রক্রিয়ার আবিষ্কার করেন এবং নোবেল পুরস্কার পান।

কীভাবে রোজার মাধ্যমে ক্যানসারের জীবাণু ধ্বংস হয় সেটি জানতে হলে শুরুতে জানতে হবে ‘অটোফেজি’ সম্পর্কে। ‘অটোফেজি’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ অটো ও ফাজেইন থেকে। বাংলায় যার অর্থ হচ্ছে আত্মভক্ষণ বা নিজেকে খেয়ে ফেলা।

এটি এমন একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীরের ক্ষয়িষ্ণু ও অপ্রয়োজনীয় কোষাণুগুলো ধ্বংস ও পরিচ্ছন্ন হয়। এটি হলো কোষের এক আবর্জনা পরিচ্ছন্নকরণ প্রক্রিয়া। রোজার সময় আমাদের শরীরের সক্রিয় কোষগুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে না।

সক্রিয় কোষগুলো সারা বছরে তৈরি হওয়া ক্ষতিকারক আর নিষ্ক্রিয় কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে নিরাপদ আর পরিষ্কার করে দেয়। এক কথায়, কোষের কার্যক্ষমতাকে ঠিক রাখতে এই প্রক্রিয়ার কোনো বিকল্প নেই। দেহ যখন সংকটাবস্থায় থাকে তখন এই অটোফেজিই দেহকে বাঁচিয়ে রাখে।

অটোফেজি আবিষ্কারের পর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের স্বাস্থ্য সচেতন অনেক মানুষ সারা বছরে বিভিন্ন সময় ‘অটোফেজি’ করে শরীরকে সুস্থ রাখেন। অনেক ধরনের ক্যানসারের জীবাণু ‘অটোফেজি’তে মারা যায় বলে এটি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে বেশি সমাদৃত।

রোজা ছাড়াও ক্যানসারের জীবাণু ধ্বংসের ক্ষেত্রে বেইজিং সামরিক হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অধ্যাপক চেন হোরিন বলেন, ‘গরম পানি এবং লেবু- এই দুইয়ের মিশ্রণ ক্যানসার কোষকে মেরে ফেলে। এক কথায় এক গ্লাস গরম পানি আর লেবু আপনাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।’বিজ্ঞানের ভাষায় গরম লেবু থেকে এন্টি ক্যানসার ড্রাগ বের হয়। শুধু ক্যান্সার নয়, টিউমারের ওপরও গরম লেবুর রসের একটি কার্যকরী প্রভাব আছে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মুসলমানের পবিত্রতম রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে, কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের যে ধরণের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রোজা পালন করতে হবে, তার নজীর ইতিহাসে বিরল।বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মুসলিমরা এবার প্রথামত আত্মীয়-পরিজন-প্রতিবেশিদের নিয়ে সন্ধ্যায় ইফতারি করতে পারবেন না এবং রাতে দল বেঁধে মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ পড়তে পারবেন না।

‘এমন এক পরিস্থতি অতীতে কখনো হয়েছে – আমার জানা নেই,’ ন্যাশনাল ইউনিভার্টি অব মালয়েশিয়ার গবেষক ফাইজাল মুসাকে উদ্ধৃত করে বলছে আল জাজিরা। ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ গেছে, অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে, কিন্তু অতীতের কোনো লেখালেখিতে বা সাহিত্যে বর্তমান পরিস্থিতির মত কিছু পাওয়া যায়না।যুদ্ধের সময়, দুর্যোগের সময়েও মুসলমানরা রমজানের সময় একসাথে হয়ে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করেছে।’ ব্রিটেনে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় সংগঠন মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এক বিবৃতিতে বলেছে,‘এবারের রমজান হবে মুসলমানদের জন্য একদম ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা,

এবং পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির সাথে তাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’ সন্দেহ নেই এবারের রমাজন মাস হয়তো মুসলিম ইতিহাসে একেবারে ভিন্ন, ব্যাতিক্রমী ঘটনা হিসাবে জায়গা পাবে। মক্কা ও মদিনার মসজিদে তারাবি ধর্মীয় আচার পালনে দিক-নির্দেশনার জন্য মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ যে দেশটির দিকে তাকিয়ে থাকে,

সেই সৌদি আরব আজ (বুধবার) রমজান উপলক্ষ্যে বিধিনিষেধ কিছু শিথিল করেছে। সৌদি বাদশাহ মক্কা ও মদিনায় মুসলমানদের দুই পবিত্রতম মসজিদে তারাবি নামাজের অনুমতি দিয়েছে বলে রিয়াদ থেকে রয়টরস বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। তবে সাধারণ নামাজিরা যেতে পারবেন না।

এছাড়া, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে জারী করা কারফিউ সকাল ৯টা থেকে বিকলে পাঁচটা পর্যন্ত কিছুটা শিথিল থাকবে। তবে বিশ্বের বহু মুসলিশ দেশে সেই ছাড়টুকুও দেয়া হচ্ছে না। মিশরে রমজান মাসে জামাতে নামাজসহ যে কোন ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ। ইরানে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই রমজান মাসে জনগণকে জামাতে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেরুজালেমে ইসলামের তৃতীয় পবিত্র মসজিদ আল আকসাতেও রমজানে নামাজ হবে না শুধু দিনে পাঁচবার আজান হবে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সিঙ্গাপুর, ব্রুনেইতেও এখন মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ওপর যে বিধিনিষেধ চলছে, রমজান মাসে তার কোনো ব্যাতিক্রম হবেনা।

যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া এখন বন্ধ, এবং রমজান মাসে তার কোনো ব্যাতিক্রম এবার হবে – কোনো ইঙ্গিত নেই। ব্রিটেনে মসজিদগুলো রোজার সময় নামাজ, দোয়া-দরুদ, খুতবা ভিডিওতে লাইভ-স্ট্রিমিং করবে।

মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন রমজান উপলেক্ষে জন্য যে পরামর্শ জারী করেছে তাতে বলা হয়েছে – জামাতে নামাজ হবে না, মসজিদের গিয়ে তারাবি হবে না, এবং কোনো ইফতার পার্টি করা যাবে না। পাকিস্তান কিছুটা ব্যাতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে।

সেদেশে রোজার সময় তারাবি নামাজ অনুমোদন করা হয়েছে, তবে শর্ত দেয়া হয়েছে নামজিদের একজনের সাথে আরেকজনের ছয় ফুট ব্যবধান রাখতে হবে। বাংলাদেশে রমজান মাসে সামাজিক দূরত্ব শিথিল করা হবে কিনা, মসজিদে গিয়ে তারাবি নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হবে কিনা- তা এখনও নিশ্চিত নয়। এবারের ঈদও কি ভিন্ন হবে?

রোজার শেষে মুসলমানরা কি এবার তাদের সেবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর প্রথাগতভাবে উদযাপন করতে পারবে? এখনও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের যে গতি-প্রকৃতি তাতে ঈদ উদযাপন কেমন হবে – তা নিয়েও বিস্তর সন্দেহ রয়েছে।

সৌদি গ্রান্ড মুফতি পাঁচদিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এবারের ঈদের নামাজও ঘরে বসে পড়তে হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ায় ঈদের আগে শহর থেকে যে লাখ লাখ মানুষ তাদের গ্রামে যায়, তা এবার নিষিদ্ধ থাকবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও তার দেশে একই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাছাড়া, পুরো রমজান মাস ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে রাস্তায় যে মেলা হয়, তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্ম পালনে, বিশেষ করে রোজা বা ঈদে, এ ধরনের সামজিক বিচ্ছিন্নতা ইসলামের ঐতীহ্যের একেবারে পরিপন্থী।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমকে এবার আপস করতে হচ্ছে। রমজানের আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ব্রিটেনে ইসলামি আইনের একজন বিশেষজ্ঞ ড. ইনাম আল বাদাওয়ী অবশ্য বিবিসিকে বলেছেন, রমজানের মূল আধ্যাত্মিক শিক্ষা-আদর্শ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

‘একসাথে জড় না হয়েও মানুষ রমজানের আধ্যাত্মিক আদর্শের অনেকটাই অর্জন করতে পারে। নানা দিকে মনোনিবেশ না করতে হলে বরঞ্চ বেশিই পারে।’ তিনি বলেন,‘একসাথে মিলিত হওয়ার যে আনন্দ তা হয়তো এবার তেমন থাকবেনা, কিন্তু বিকল্প পন্থায় প্রিয়জনদের সাথে সেই যোগাযোগের রাস্তা তো তৈরি হচ্ছে।’