‘আইন করে গাড়ির চাকা বন্ধ করা লাগবেনা,চাঁদাবাজের পৃষ্ট খাদ থেকে এমনিতেই উঠতে পারবেনা’

2068

আইন করে বন্ধ করা লাগবেনা, নুতুন আইনে এমনিতেই গাড়ির চাকা বন্ধ হয়ে যাবে, এমন মন্তব্য করলেন একজন ট্রাকের মালিক এবং চালক।সারা দেশে নয় দফা দাবিতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে।এরই মধ্যে কয়েক জন মালিক এবং চালকের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা গুলি জানার চেষ্টা করা হয়।সোহরাব উদ্দিন একজন টাটা গাড়ির মালিক তিনি বিস্তারিত জানালেন তাদের ভেতরের সমস্যাগুলি।তারা জানালেন বর্তমান দেশের পরিস্থিতে খুবই নাজুক এবং করুণ পরিস্থিতে আছেন একজন গাড়ির মালিক এবং চালক।যিনি গাড়ি কিনেছেন তিনি গাড়ির চাকার খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।প্রতি ছয় মাস অন্তুর দশ চাকার মালিক কে ৫ জোড়া এবং ছয় চাকার মালিককে তিন জোড়া টায়ার লাগাতে হয়, যার বাজার মুল্য প্রায় তিন লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।

একটি গাড়ি যদি সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে ২ হাজার টাকা ইঙ্কাম করে তবে মাসে হয় ৬০ হাজার। যদিও এর মধ্যে তিন ৪ দিন সার্ভিসিং সহ বিভিন্ন কাজে গাড়ি বসিয়ে রাখতে হয়।যদি গড়ে মাসে ৬০ হাজার টাকা ইঙ্কাম করে তাহলে ছয় মাসে হয় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, এছাড়াও গাড়ির সার্ভিসিং সহ এবং সরকারকে দেয়া প্রতি বছর ট্যাক্স বাবদ আরো এক লক্ষ টাকা সরকারকে দিতে হয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে একটি গাড়ি যদি দিনে ৩ হাজার টাকা করেও ইঙ্কাম করে তবুও মালিকের চাকার খরচ এবং অন্যান্য খরচ উঠছেনা, বরং ঘর থেকে টাকা দিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাতে হচ্ছে।এই অবস্থায় একজন মালিক কি ঘর থেকে টকা এনে গাড়ি চালাবেন, এবং তা কত দিন সম্ভব?।ট্রাকের এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী ?

চালক এবং মালিক উভয়ই জানালেন ১০ টি গাড়ির মালিক যে ইঙ্কাম করে বা লস করে তা গড়ে একজন পুলিশের পকেটে যায়।রাস্তা থেকে শুরু করে BRTA অফিস পর্যন্ত তাদের প্রতি দিন, প্রতি মাসে এবং প্রতি বছর চাঁদা দিতে হয়।আইনের ফাক ফকরের সুযোগ নিয়ে গাড়ির সব কাগজ পত্র ঠিক থাকলেও ৫০০ টাকার নিচে গাড়ি ছাড়েন না একজন সার্জেন্ট।টাকা দিতে সামান্য গড়মিস করলেই ঠুকে দেয়া হয় বড় মামলা। এরকম শুধু একজন সার্জেন্ট নয়,লোড পয়েন্ট থেকে শুরু করে আনলোড পয়েন্ট পর্যন্ত কম হলেও ৫-৭ সার্জেন্টকে মনরঞ্জন করে তারপর গাড়ি তার গন্তব্যে পৌছায়।

এর মধ্যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ওসি ডিসি এসপিদের নিয়োগ প্রপ্ত লাঠিয়াল চাঁদাবাজ যারা ২৪ ঘন্টা প্রত্যেকটি গাড়ি থেকে চাঁদাবিজি করছে পুলিশ কিঙ্গা অনান্য প্রশাসনের সামনে।কিন্তু কারো কিছুই বলার নেই।কাগজ পত্র সামান্য ত্রুটি পেলে গাড়ি ডাম্পিং করার ভয় দেখিয়ে ১০-২০ হাজার টাকা আদায় করা সড়কের নৈমত্তিক ব্যাপার।

পুলিশের জন্য চাঁদাবাজি করা আরো সহজ হলো যখন বছর দুইয়েক আগে বিদ্যমান আইনেই ৩৫ টন ক্যাপাসিটি তুলে দিয়ে ১৯ টন করা হলো।একটি দশ চাকার গাড়ি যেখানে ৪০-৪৫ টন মালামাল বহনের জন্য তার বডি এবং ইঞ্জিন তৈরী করা হয়েছে, এবং একজন মালিক ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে সরকারের অনুমতি ক্রমে এই গাড়িটি কিনেছেন, তিনি যদি এখন ছয় চাকার গাড়ির সমান লোড নিয়ে রাস্তায় চলাচল করেন তাহলে তার তেলের খরচ কিভাবে উঠবে?

পুলিশের সীমাহীন চাঁদাবাজি যখন দেশের ওপেন সেক্রেট বিষয়, তথাকথিত সুশীল নাপিত যার টেলিভিষনে বড় বড় বুলি আওড়ান, তারা কি এটি নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেছেন? তাদের যত ক্ষভ চালক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।চালক শ্রমিক অন্যায় করলে শাস্তি হবে এজন্য তাদের জন্য ৫৩ টি ধারা দেয়া হয়েছে, এতে কাড় আপত্তি নেই, যারা রাস্তার মুল সমস্যা সেই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কয়টি ধারা করা হয়েছে ?

৩৫ টন মালামাল আমাদের দেশের রাস্তার অনুপযোগী এটি সরকারের বক্তব্য, তাহলে কেন এই রাস্তায় ১০ চাকা গাড়ি আমাদানি করার অনুমতি দেয়া হলো, কেন রেজিস্ট্রসন করল, তাহলে এখন কেন মালিকের উপর ওভারলোডের মামলা দেয়া হচ্ছে? এটি কোন যুক্তি? এ যেন হাত পা বেঁধে সাতার কাটতে দেয়া? কার স্বার্থে এই দেশে ১০ চাকা গাড়ি আনার অনুমিতি দিলেন সরকার, টাটা কম্পানির বিক্রয়ের স্বার্থে ? যদি তাদের স্বার্থেই দিয়ে থাকেন, তাদেরকে বাধ্য করুন, ন্যায্য মুল্য দিয়ে এই গাড়ি গুলো রাস্তা থেকে তুলে নিতে।নতুনা কেন আপনাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে এই দেশের নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবার সর্বস্বান্ত হবে?

কেন এদেশের খেটে খাওয়া নিম্ন মধ্য বিত্তদের উপর এমন জুলুম? প্রশ্ন মালিক এবং চালকদের।সরকার থেকে ৩৫ টন ক্যাপাসিটি তুলে দিয়ে যখনই ১৯ টন করা হলো সেদিন থেকেই পুলিশের চাঁদাবাজির সুযোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।এমন কোন গাড়ি নেই আর এমন কোন দিন নেই যে অভার লোডের মামালায় পড়তে হয় নি।মামলা দিয়েই পুলিশ ক্ষান্ত নয় ট্রাফিক পুলিশ।মামলা তুলতে থানায় গেলে মামলার জরিমানার কয়েক গুণ বেশি আদায় করা তাদের পত্রিক অধিকার, যেখানে মালিকের টূ শব্দটি করার অধিকার নেই।

১৯৮৩ সালের আইনেই ওভারলোডের মামালায় জরিমানার ১ হাজার টাকার কয়েক গুণ আদায়, গাড়ির কাগজ পত্র যব্দ করে আবার কাগজ না দেখাতে পারার অযুহাতে আবার মামলা,সেই মামলায় আবার ১০ হাজার জরিমানা। এই সীমাহীন অত্যাচারে গাড়ির মালিক যখন দিশেহারা, তখন এরই মধ্যে আরেকটি আইনে ওভারলোডের দন্ড করা হলো এক লক্ষ টাকা যার ৩০ হাজার লিগ্যালী পাবেন যিনি মামলা করবেন।একটি গাড়ি দুই মাস একাধারে চলার পর দুই মাসে ১ লক্ষ টাকা আয় তো করা দূরে থাক মোট ক্যাশ এক লক্ষ টাকা করতে পারছেনা।

মাননীয় মন্ত্রী আপনি কি ভেবেছেন গাড়ির মালিক জমি বিক্রি করে আপনার লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনীর চাঁদার টাকা পরিশোধ করবে? অধিকাংশ মালিকের সেই সামর্থ্যটুকুও নেই।অনেকেই জমি বিক্রি করেই অনেক সপ্ন নিয়ে গাড়িটি কিনেছিলেন, এর চেয়ে বরং আপনারা গাড়িটি একাবারে ধরে নিয়ে যান, গাড়ি নিয়ে পুলিশ বাহিনী দিয়ে গাড়ি চালান অথবা ভাংরি ধরে বিক্রি করে দিয়ে আপনাদের বৈদিশিক একাউন্টে জমা করুন। আমাদের মাথার বোঝা কিছু হলেও কমবে।

Loading...