Home | সারাদেশ | অব্যাবস্থাপনায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতবর্ষী মসজিদ

অব্যাবস্থাপনায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতবর্ষী মসজিদ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ২ নম্বর পৌর এলাকার সর্বশেষ দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত শতবর্ষী হযরত কাঙ্গালী শাহ (রহঃ) শাহী জামে মসজিদ ও মাজার এবং তৎ সংলগ্ন কবরস্থান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে মাজারের প্রধান গেইট নদীতে তলিয়ে গেছে। সেই সাথে ভেঙ্গে গেছে মাজারে যাওয়ার পথ।

নদীর ভাঙ্গনে মাজার সংলগ্ন কবরস্থানের অর্ধ শতাধিক কবর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে মসজিদের সীমানা প্রাচীর।

স্থানীয়রা বলছেন, সহসা নদীতে গাইড ওয়াল (ধারক দেয়াল) দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে এই বর্ষাতেই শতবর্ষী এই মাজার ও মসজিদ নদীতে তলিয়ে যাবে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার ২নং পৌর এলাকার একেবারে দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত হযরত কাঙ্গালী শাহ (রহঃ) শাহী জামে মসজিদ ও মাজার। এখানে হযরত বদরুচ্ছলিম শাহ (রহঃ) ও হযরত রহমত আলী শাহ (রহঃ) নামের আরো দুইজন অলির মাজার রয়েছে। মাজারের দক্ষিণ ও পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে কবরস্থান।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় শত বছর পূর্বে ধর্ম প্রচারের জন্যে সুদূর আরব থেকে তিনি এখানে এসে আস্তানা গড়েন। পরে আনোয়ারার হযরত বদরুচ্ছলিম শাহ (রহঃ) ও স্থানীয় হযরত রহমত আলী শাহ (রহঃ) তাঁর শিষ্যতা গ্রহণ করে এখানে ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

অলিদের জীবদ্দশায় মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরে তাঁদের ইন্তেকালে মসজিদের দক্ষিণ পাশে তাঁদের মাজার গড়ে উঠে। তখন থেকেই মাজার ও মসজিদকে ঘিরে গড়ে উঠে কবরস্থান। এলাকাবাসী সময়ের সাথে সাথে মাজার ও মসজিদগুলি সংস্কার করে দালানে রূপান্তরিত করেছে। সেই মাজার, মসজিদ আর কবরস্থান এখন অস্তিত্ব সংকটে। যে কোন মুহূর্তে নদীতে বিলিন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন সরকার মাজারের অনতি দূরে কর্ণফুলীর শাখা নদী কাউখালী নদীর মোহনায় একটি স্লুইস গেইট নির্মাণ করে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই স্লইস গেইটটির কারণে এখন মাজার, মসজিদ ও কবরস্থানটি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রথমত স্লুইস গেইটটি নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। দ্বিতীয়ত ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে স্লুইস গেইটটি যথাযথভাবে নির্মিত হয়নি।

প্রায় ৫ মাইল দীর্ঘ নদীর জন্যে নির্মিত এই স্লইস গেইটে রাখা হয়েছে মাত্র ৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের দু’টি ফটক। যা দিয়ে এত দীর্ঘ নদী দিয়ে ধেয়ে আসা ১৫টি গ্রাম আর ৮টি পাহাড়ের বর্ষার পানি সহজে প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় প্রবল স্রোত। স্লুইস গেইটের উজান আর ভাটিতে মাটি ধসে না পড়ার জন্যে ব্লক বসানোর নিয়ম থাকলেও এখানে কোন ব্লক বসানো হয় নি।

এতে পানির প্রবল স্রোতের কারণে ভাটির দু’পাশের মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে ভাঙ্গনের। আর উজানে পানি জমেও ভেঙ্গে পড়ছে নদীর পাড়। ভাঙ্গনের কবলে পড়া মাজার, মসজিদ আর কবরস্থান ছাড়াও স্লুইস গেইটের উজান ও ভাটিতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২০টি ঘর নদীতে তলিয়ে গেছে।

ভাঙ্গনের মুখে থাকা একটি বসতবাড়ির মালিক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, স্লুইস গেইট সাধারণত নদীর উজানে বসানো হয়। এটি কেন যে নদীর মোহনায় বসানো হলো জানি না। কৃষকদের ফসল উৎপাদনের সেচ ব্যবস্থা করতে গিয়ে বসানো স্লুইস গেইটটি এখন এলাকাবাসীর অভিশাপে পরিণীত হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত নদীর ভাঙ্গনে ২০টি কাঁচা ও মাটির ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। মাজারের প্রধান গেইট ভেঙে নদীতে মিশে গেছে। ভেঙ্গে গেছে মাজারে আসা-যাওয়ার পথও। মসজিদের সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে আছে আরও ৪-৫টি কাঁচা ও মাটির ঘর।

মোতোয়াল্লী পরিবারের সদস্য কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টি বেশী হয়েছে। সেই সাথে ছাড়া হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে এ পর্যন্ত ৪ বার বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে স্লুইস গেইটের উজানে পানি জমে আর ভাটিতে প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করে। প্রশাসন সহসা কোন উদ্যোগ না নিলে মাজার, মসজিদ, কবরস্থান আর মানুষের ঘরবাড়ি কিছুই রক্ষা যাবে না।

এছাড়াও এলাকাটি পৌরসভার একেবারে শেষ সীমান্তে হওয়ায় এখানে কোন প্রকার বরাদ্দ দেয়া হয় না। তিনি নদীর ভাঙ্গন রক্ষার্থে গাইড ওয়াল নির্মাণ বড়ই জরুরী বলে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

Comments

comments

About senior reporter

Check Also

ছেলের গ্রেফতারের কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেই মা

‘মোর ছুয়াডাক নাকি পুলিশ ধরিছে, পুলিশ তো ছুয়াডাক এলা মারিবে। ছুয়াডার বাপ মরে যাওয়ার পর …

Leave a Reply