ছিনতাইয়ের নে’শায় দুবাই থেকে ফিরে আসে ফরিদ

1661

ছি’নতাই ছেড়ে দুবাই চলে গিয়েছিল নগরীর দু’র্ধর্ষ ছি’নতাইকারী শেখ ফরিদ (৩৪)। কিন্তু ‍সেখানে থাকতে পারেননি। এক বছরের মধ্যেই ছি’নতাইয়ের নে’শায় ফিরে আসেন দেশে। এমনই কৌশলী ফরিদ, আট বছর ধরে ছিনতাই করলেও ধরা পড়েছে এই নিয়ে মাত্র দুইবার।
সর্বশেষ গত (রোববার) রাতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের পর গু’লিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে শেখ ফরিদ। সঙ্গে একই গ্রুপের মো.ইউসুফ প্রকাশ ইলিয়াছও (৩৫) ধরা পড়ে। আটক দুজনের কাছ থেকে তাদের অপরাধ জীবনের বিভিন্ন চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (পশ্চিম) এ এ এম হুমায়ুন কবির বাংলানিউজকে বলেন, ইউসুফ এবং শেখ ফরিদ দুজনই ব্যাগ টানা পার্টির সদস্য। দুজন চক্রের মূল লিডারদের মধ্যে অন্যতম। ইউসুফ ১৫ বছর ধরে ডা’কাতি ও ছি’নতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। শেখ ফরিদ গত ৮ বছর আগে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ে। তাদের গ্রুপে আরও ২০ জনের মতো আছে।

মিরসরাই জেলার জোরারগঞ্জ থানার মো.ইসমাইলের ছেলে শেখ ফরিদ পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক ছিলেন। অটোরিকশা চালাতে গিয়েই পেশাদার ছি’নতাইকারীদের সঙ্গে পরিচয় এবং ২০১০ সালে এই অ’পরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ে, এমন তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো.কামরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত সমানে ছিনতাই করে গেছে ফরিদ। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর দুবাই চলে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে- সেখানে গিয়ে ফরিদ দেখল কাজে পরিশ্রম বেশি, টাকা কম। এর চেয়ে ছিনতাই ভাল। সেজন্য ফরিদ ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আবারও ছি’নতাই শুরু করে।

সূত্রমতে, নগরীর এম এম আলী রোডের মুখে এক বৌদ্ধভিক্ষুকে ছিনতাইয়ের মা’মলায় ২০১৭ সালের ১৪ আগস্ট প্রথম ফরিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এসময় ফরিদের সঙ্গে ছিনতা’ইকারী ইউসুফ এবং ভুট্টুও গ্রেফতার হয়। দুই মাসের মধ্যে তারা জামিনে ছাড়া পায়। এরপর আবারও শুরু হয় ব্যাগ টানার কাজ।

রাঙামাটি জেলার তবলছড়ি থানার ইসমাইল মিস্ত্রির ছেলে ইউসুফ ২০০৩ সালে প্রথম ডাকাতি মাম’লায় নগরীর চান্দগাঁও থানায় গ্রেফতার হয়। ২০১০ সালে দু’র্ধর্ষ ছিনতাইকারী হামকা গ্রুপের নূরের দলে যোগ দেয়। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি আন্ত:জেলা ডা’কাতদলের সঙ্গেও যুক্ত হয় ইউসুফ। ২০১৫ সালে কারাগারে ইউসুফের সঙ্গে জাকির, ভুট্টু ও নজরুলের পরিচয় হয়। তারা ইউসুফকে ব্যাগ টানা পার্টিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জহির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ইউসুফ দেখল-স্বাভাবিক ছিনতাই কিংবা ডা’কাতির চেয়ে ব্যাগ টান দেওয়ার মধ্যে ঝুঁকি কম। টেক্সি থেকে ব্যাগ টান দিয়ে চলে গেলেই হয়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কারও উপর আক্রমণ করে ছিনতাই করতে গেলে ধরা পড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এই চিন্তা করে ২০১৫ সালে ইউসুফ টানা পার্টিতে যোগ দিল।

সাহসী হওয়ায় ইউসুফের উপরই ব্যাগ টান দেওয়ার দায়িত্ব থাকত বলে জানিয়েছেন ডিবি পরিদর্শক কামরুজ্জামান।

ফরিদ ও ইউসুফকে গ্রেফতার অভিযানে থাকা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসীন বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা এবং সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তারা ব্যাগ টান দেওয়ার মাধ্যমে ছিন’তাই করে। দিনের তাদের নজর থাকে ট্রেন ও বাসযাত্রীদের উপর। সন্ধ্যার পর মার্কেট-শপিংমল থেকে ফিরতি রিকশাযাত্রী নারীরা। তারা প্রতিদিন কমপক্ষে ১০টি ছি’নতাই করে।

‘একটি অটোরিকশায় ৩ জন করে থাকে। ৬-৭টি অটোরিকশা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সড়কে ছি’নতাই করতে বের হয়। শহরের সিটি গেট থেকে বড়পুল, ওয়াসা-আলমাস-আসকার দীঘির পাড়, জাকির হোসেন রোড, ফয়সলেক, জিইসি থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত নির্জন এবং প্রশস্ত সড়কে তারা ছি’নতাই করে বলেন মহসীন ।

পুলিশ জানায়, এক মাসের চুক্তিতে তারা সাধারণত ‘অনটেস্ট’ অটোরিকশা ভাড়া করে। গ্যাসের বদলে দ্রুতগতির জন্য ব্যবহার করে অকটেন। আর এই অটোরিকশা মেরামতের জন্য আছে নির্দিষ্ট মিস্ত্রি।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় পূবালী মাঠসংলগ্ন রেললাইনের পাশে গুলিবিনিময়ের পর ফরিদ ও ইউসুফকে আটক করতে সক্ষম হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। নগরীতে এক বৃটিশ নাগরিকের ব্যাগ ছি’নতাইয়ের ঘটনার সূত্রে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।